পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পৃথক দুই অগ্নিকাণ্ডে সাত পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালী এলাকায় একই পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের পাঁচটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, ধান, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই দিনে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এলাকায় আরও একটি অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর পুড়ে যায়। ওই ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টা ও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যথাক্রমে শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এবং সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াখালী এলাকায় ওবায়দুল হাকিম ও ওসমান গণির বাড়িতে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জালিয়াখালী এলাকার বাড়িটিতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই একই পরিবারের পাঁচটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন ওবায়দুল হাকিমের পাঁচ ছেলে—মাহমুদুর রহমান, সৌদি প্রবাসী আমিনুল হক, ট্রাকচালক রেজাউল করিম, গরু ব্যবসায়ী আজিজুল হক এবং বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদের পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত গৃহবধূ কপি আক্তার বলেন, সকালে কিস্তির টাকা দিতে পাশের একটি বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন বাড়ির একপাশে আগুন জ্বলছে। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে গেল।”
তিনি জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। একজন জা সন্তানকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন, আরেকজন এক সপ্তাহ আগে বাবার বাড়িতে গেছেন। শাশুড়িও কয়েক দিন আগে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ধান, আসবাবপত্রসহ ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে।
সৌদি প্রবাসী আমিনুল হকের স্ত্রী জেফসি বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সন্তানকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। পরে মোবাইল ফোনে আগুন লাগার খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে দেখেন সবকিছু ভস্মীভূত। তিনি বলেন, “পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শত শত মানুষ একযোগে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এলাকাবাসী দ্রুত এগিয়ে না এলে পাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারত।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন প্রবাসী, একজন গরু ব্যবসায়ী এবং একজন বিকাশ এজেন্ট রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে তারা সর্বস্ব হারিয়েছেন। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
ইউপি সদস্য মানিক অভিযোগ করেন, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। সময়মতো পৌঁছাতে পারলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হতো।
এদিকে, একই দিন ভোরে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা এলাকায় বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট পৃথক আরেকটি অগ্নিকাণ্ডে জাকের হোসেন ও ওসমান নামে দুই ব্যক্তির দুটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, গৃহস্থালির মালামাল ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দিনমজুর ওই দুই পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পেকুয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ বলেন, খবর পেয়ে আমাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে এর আগেই ঘরগুলো পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকেই উভয় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে নির্ধারণ করা হবে।
